Vietnam War
ভিয়েতনাম যুদ্ধ : ইতিহাসের কালো অধ্যায় ....

ভিয়েতনামের যুদ্ধ ছিল এক জটিল যুদ্ধ। এ যুদ্ধ একটি ক্ষুদ্র যুদ্ধ থেকে বড় যুদ্ধে রূপ নেয়। যুদ্ধের পটভূমি গড়ে উঠে সেই ৫০'র দশকের গোড়ার দিকে কথা। ফরাসি সেনারা হো চি মিনের নেতৃত্বাধীন ভিয়েতমিন সেনাদের হাতে পরাজিত হয়ে ভিয়েতনাম ছাড়তে বাধ্য হয়। প্রায় ৬০ বছর ধরে ভিয়েতনামে ছিল ফরাসি দখলদারিত্ব।...
অবশেষে ভিয়েতনামের জনগণের প্রতিরোধ সংগ্রামের মুখে ১৯৫৪ সালে জেনেভা সম্মেলনে ফ্রান্স তার এই উপনিবেশ থেকে হাত গুটিয়ে নিয়ে দেশটির স্বাধীনতাকে স্বীকৃতি দিতে বাধ্য হয়। একইসঙ্গে কম্বোডিয়া ও লাওসকেও স্বাধীনতা দিতে বাধ্য হয় প্যারিস। কিন্তু জেনেভা-চুক্তিতে ভিয়েতনামকে অস্থায়ীভাবে উত্তর ও দক্ষিণ ভিয়েতনামে বিভক্ত করা হয়। কমিউনিস্টরা অবস্থান নেয় উত্তরে আর অ-কমিউনিস্ট বা নন-কমিউনিস্টরা থেকে যায় দক্ষিণে। গোটা ভিয়েতনামে কোন ধরনের সরকার প্রতিষ্ঠা করা হবে সে বিষয়ে গণভোট অনুষ্ঠানের কথা ছিল। কিন্তু বাস্তবে ঘটে অন্য কিছু। মার্কিন সরকার ভিয়েতনামে কমিউনিজমের বিস্তারের ভয়ে জেনেভা-চুক্তির বিরোধিতা করছিল। আর তাই দক্ষিণ-ভিয়েতনামের 'নেগু দিন দিম' সরকারকে গণভোট সংক্রান্ত আলোচনায় অংশ না নিতে উৎসাহ দেয় মার্কিন সরকার। মার্কিন সরকার ১৯৫৫ সালে স্বাধীন দক্ষিণ ভিয়েতনাম সরকারের অস্তিত্বের কথা ঘোষণা করে।
ভিয়েতনামে গণভোট অনুষ্ঠিত হবে না- এই ঘোষণার ফলে জনগণ অসন্তুষ্ট হয়ে পড়ে এবং দক্ষিণাঞ্চলে উপস্থিত ভিয়েতমিন সেনারা প্রতিরোধ গড়ে তোলে। উত্তরাঞ্চলে জনগণের সহায়তায় ১৯৫৯ সালে গড়ে তোলা হয় ভিয়েতনাম মুক্তিফ্রন্ট। দক্ষিণের জনগণ এই বাহিনীকে বলতো ভিয়েতকং। মার্কিন সরকার ১৯৫৫ সন থেকে ১৯৬০ সাল পর্যন্ত দক্ষিণ ভিয়েতনামকে কয়েক শত মিলিয়ন ডলারের সাহায্য দিয়েছিল। এ ছাড়াও শত শত মার্কিন সেনাকে পাঠানো হয় দক্ষিণ ভিয়েতনামে। কিন্তু বাস্তবে ভিয়েতকংদের অগ্রযাত্রা রুখতে পারেনি মার্কিন সরকার। ১৯৬৩ সালে নেতা মার্কিন মদদপুষ্ট এক সামরিক অভ্যুত্থানে নিহত হয় দক্ষিণ ভিয়েতনামের প্রথম প্রেসিডেন্ট 'নো দিন দিইম'। বেসামরিক নেতা 'দিইম' মারা যাওয়ার পর দক্ষিণ ভিয়েতনামে নৈরাজ্য দেখা দেয় এবং সেনাবাহিনী ক্ষমতায় আসে। সে সময় ভিয়েতনামে ১৬ হাজারেরও বেশি মার্কিন সেনা মোতায়েন ছিল। সেখানে সেনাদের সংখ্যা ক্রমেই বাড়ানো হতে থাকে। কিন্তু তখনও তারা সক্রিয় যুদ্ধে অংশ নেয়নি। আততায়ীর গুলিতে প্রেসিডেন্ট জন এফ কেনেডি নিহত হলে লিন্ডন বি জনসন (১৯৬৩ সালের ২২ নভেম্বর) মার্কিন প্রেসিডেন্ট হন। এরপর ভিয়েতনামের ব্যাপারে মার্কিন অবস্থান আরো আক্রমণাত্মক হয়ে উঠে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট জনসন ১৯৬৪ সালে এক ভাষণে বলেন যে, আমেরিকা চীনসহ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়াকে হাতছাড়া করতে প্রস্তুত নয়। এই নীতির দোহাই দিয়ে ওয়াশিংটন ১৯৬৪ সালের গ্রীষ্মকাল থেকেই ভিয়েতনামে তার সামরিক উপস্থিতি জোরদার করতে থাকে এবং এরপর থেকে এ অঞ্চলে মার্কিন সেনাদের ঢল নামে।মার্কিন সরকার ভিয়েতনাম অঞ্চলে দক্ষিণ কোরিয়া ও অস্ট্রেলিয়াসহ কয়েকটি মিত্র দেশ থেকেও সেনা আমদানি করে নিজ সেনাদের সহায়তা দেয়ার জন্য। কিন্তু ভিয়েতনামে যৌথ সামরিক অভিযানের নেতৃত্ব ছিল মার্কিন সেনা-কমান্ডের হাতে।
১৯৬৪ সালের ৪ আগস্ট তোনকিন উপসাগরে কয়েকটি মার্কিন জাহাজের ওপর হামলার এক সাজানো ঘটনা ঘটিয়েছিল মার্কিন সরকার। এভাবে কৃত্রিম উপায়ে উত্তেজনাকর পরিবেশ সৃষ্টি করে ওয়াশিংটন। এ সময় মার্কিন রণতরীগুলো উত্তর-ভিয়েতনামের উপকূলে দেশটির সঙ্গে সামরিক সংঘাতে লিপ্ত হয়েছিল। মার্কিন প্রেসিডেন্ট জনসন নিজেই জানতেন যে, হামলার ওই ঘটনা সম্পর্কে তার দাবি ছিল পুরোপুরি মিথ্যা। ওই ঘটনার কয়েক মাস পর তিনি নিজের ওই দাবির মিথ্যা বা বানোয়াট হওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, 'আমি যতদূর জানি আমাদের নৌ-সেনারা কয়েকটি তিমি মাছের ওপর গুলি বর্ষণ করেছে এবং সেখানে শত্রুর কোনো চিহ্নই ছিল না।'
কিন্তু জনসন ওই ঘটনার কিছু দিন পরই যুদ্ধ করার অনুমতি পান কংগ্রেসের কাছ থেকে। ১৯৬৫ সালে দ্বিতীয়বারের মত মার্কিন প্রেসিডেন্ট হন জনসন। পুনঃনির্বাচিত হওয়ার পরই তিনি ভিয়েতনামে এক লাখ ৮৫ হাজার মার্কিন সেনা পাঠানোর নির্দেশ দেন। সে বছরের গ্রীষ্মেই মার্কিন বিমান বাহিনী এক অভিযান শুরু করে যা ৪৪ মাস পর্যন্ত স্থায়ী হয়। মার্কিন বি-ফিফটি টু ও এফ-১১১ বিমানগুলো কয়েক হাজার বার উড্ডয়ন করে উত্তর ভিয়েতনামের শহরগুলোর ওপর বোমা বর্ষণ করে।
কিন্তু যুদ্ধ মার্কিন পরিকল্পনা অনুযায়ী এগুচ্ছিল না। মার্কিন বিমান সেনাদের মধ্যে নিহতের সংখ্যাও ছিল ব্যাপক। এমনিতেই মার্কিন সেনারা বন-জঙ্গলে যুদ্ধ করার জন্য অভ্যস্ত ছিল না, তাও আবার তাদেরকে গেরিলাদের মোকাবেলা করতে হয়েছে। ৯৩৮টিরও বেশি মার্কিন সামরিক বিমান ও হেলিকপ্টার উত্তর-ভিয়েতনামীদের বিমান বিধ্বংসী অস্ত্রের আঘাতে ধ্বংস হয়। ১৯৬৬ সালে দক্ষিণ কোরিয়ার কয়েক লাখ সেনা ও ৪৫ হাজার মার্কিন সেনা জঙ্গিবিমান ও হেলিকপ্টারের ছত্রচ্ছায়ায় তীব্র হামলা শুরু করে। এইসব মার্কিন জঙ্গিবিমান ও হেলিকপ্টারের পাইলটরা ভিয়েতনামের ওপর অনবরত বোমা ফেলে সেখানে জাহান্নাম সৃষ্টির কাজে বিন্দুমাত্র অবহেলা দেখায়নি।
কিন্তু এতসব যৌথ হামলা সত্ত্বেও মার্কিন সেনা ও তাদের মিত্র বাহিনী ভিয়েতকংদের প্রতিরক্ষা-লাইন ভেঙে দিতে ব্যর্থ হয়। উভয়পক্ষে প্রায় এক লাখ সেনা নিহত হলেও ভিয়েতকংরা শত্রুদেরকে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ দেয়নি। ফলে এইসব মার্কিন হামলা ব্যর্থ হয়। ১৯৬৭ সাল নাগাদ ভিয়েতনামে নিহত মার্কিন সেনার সংখ্যা ১৫ হাজারেরও বেশি ছাড়িয়ে যায়। ওয়াশিংটন কেবল ওই বছরই যুদ্ধের জন্য দুই হাজার ৫০০ কোটি ডলার ব্যয় করে।
ভিয়েতনামে মার্কিন সেনাদের প্রাণহানির সংখ্যা বাড়তে থাকায় এবং সামরিক ক্ষেত্রে কোনো অগ্রগতি অর্জন করতে না পারায় এই যুদ্ধের বিরুদ্ধে মার্কিন নাগরিকরাই বিক্ষোভ শুরু করে। ১৯ বছরের যুবক সন্তানরা যাতে নিহত না হয় সেজন্য তাদের বাবা-মায়েরা উদ্বিগ্ন হয়ে উঠতে থাকেন। বিভিন্ন অঞ্চলে ভিয়েতকংদের আকস্মিক হামলার মুখে মার্কিন সেনারা অত্যন্ত বিশৃঙ্ক্ষলভাবে পিছু হটতে থাকে। এ বিষয়টি বিশ্বের গণমাধ্যমে ব্যাপকভাবে প্রচারিত হলে আমেরিকার জন্য তা খুবই লজ্জাজনক হয়ে ওঠে।
মার্কিন ও দক্ষিণ ভিয়েতনামের সেনারা তিন তিন বার অভিযান চালানোর পর উত্তরের সেনাদের পিছু হটিয়ে দিতে সক্ষম হয়। কিন্তু মার্কিন প্রেসিডেন্ট জনসনের জন্য কথিত এ বিজয় ছিল একটি তিক্ত ও লজ্জাজনক পরাজয়। এতো বিপুল বিনিয়োগের পরও এই যুদ্ধে আমেরিকার সবচেয়ে বেশি সেনা প্রাণ হারায়। ফলে যুদ্ধ-বিরোধীদের সমালোচনার ঝড় শুরু হয়। এই সমালোচনার ফলে তীব্র চাপের মুখোমুখী হয় জনসনের মার্কিন সরকার। কারণ, মার্কিন সেনারা ভিয়েতনামে যে বিপর্যয় সৃষ্টি করেছিল তা ছিল অমানবিক ও ত্রাস-সঞ্চারক।
পরবর্তীকালে যেসব রিপোর্ট প্রকাশিত হয়েছে তা থেকে দেখা যায়, মার্কিন বোমারু বিমানগুলো ১৯৬৪ থেকে ১৯৬৯ সাল পর্যন্ত এক লাখেরও বেশি অভিযান চালিয়েছে এবং ভিয়েতনামে নিক্ষেপ করেছে ৭০ লাখ টন বোমা। এই পরিমাণ বিস্ফোরক দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শেষের দিকে জাপানের হিরোশিমায় নিক্ষিপ্ত পরমাণু বোমার সমান শক্তিশালী ছিল।যদিও মার্কিনীরা ভিয়েতনামে যুদ্ধের বছরগুলোতে আকাশে আধিপত্য বজায় রেখেছে, কিন্তু মার্কিন পাইলটরা জানতেন যে, তারা তখনই ময়দানে বিজয়ী হবে যখন অসাধারণ কিছু ঘটবে বা তাদের কোনো প্রতিদ্বন্দ্বি থাকবে না।
বিমান যুদ্ধে প্রাণহানির সংখ্যা এবং জনমতের চাপ বাড়তে থাকায় প্রেসিডেন্ট জনসন ১৯৬৮ সালের মার্চ মাস থেকে একতরফাভাবে বিমান হামলা কমিয়ে দেন। এ ছাড়াও তিনি আলোচনায় বসতে উত্তর ভিয়েতনামের প্রতি আহ্বান জানান। এ সময়ে ভিয়েতনামে মার্কিন সেনার সংখ্যা ৫ লাখ ছাড়িয়ে যায়। এ সংখ্যা ছিল ওই যুদ্ধের ময়দানে সর্বোচ্চ। কিন্তু বাস্তবে পরিস্থিতি মার্কিনীদের জন্য তেমন একটা অনুকূল হয়নি।
রিচার্ড নিক্সন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর মার্কিন নীতিতে বড় ধরনের কিছু পরিবর্তন ঘটে। মার্কিন নীতিতে ব্যাপক পরিবর্তনের কারণে ১৯৬৯ সালকে আমেরিকার পরিবর্তনের বছর বলে উল্লেখ করা যায়। ১৯৭০ সালের প্রথম দিকে মার্কিন ও দক্ষিণ ভিয়েতনামের সেনারা কম্বোডিয়ায় হামলা চালিয়ে এই দেশে ভিয়েতকংদের ঘাঁটিগুলো ধ্বংসের চেষ্টা চালায়। কিন্তু এর ফলে কার্যত কম্বোডিয়ায় গৃহযুদ্ধ বিস্তৃত হওয়া ছাড়া অন্য কিছুই ঘটেনি। এরপর মার্কিন সেনারা লাওসে হামলা চালিয়ে সেখানে ভিয়েতকংদের সংযোগ বা সরবরাহ লাইনগুলো কেটে দেয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু এখানেও ব্যর্থ হয় মার্কিনীরা। কারণ, এ অঞ্চল থেকে মার্কিন সেনারা সরে যাওয়ার পরপরই উত্তরের সেনারা আবারও লাওসের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে। ফলে যুদ্ধে মার্কিনীদের বিজয় না ঘটার বিষয়টি স্পস্ট হয়ে পড়ে। তাই নিক্সন ভিয়েতনামের চোরাবালি থেকে মার্কিনীদের উদ্ধারের লক্ষ্যে তথা পুরোপুরি কলঙ্কিত হওয়ার আগে যতটা সম্ভব সম্মান নিয়ে ভিয়েতনাম থেকে বেরিয়ে আসার জন্য এ সময় থেকেই পথ খোঁজার কাজ শুরু করেন।
উত্তর-ভিয়েতনাম অত্যন্ত কড়া অবস্থান নেয়া সত্ত্বে ক্ষয়িষ্ণু যুদ্ধের ছায়ায় আবারও আলোচনা শুরু হয়। শেষ পর্যন্ত ১৯৭৩ সালের জানুয়ারি মাসে মার্কিন সরকার দক্ষিণ ভিয়েতনাম থেকে তাদের সব সেনা পুরোপুরি সরিয়ে নিতে সম্মত হয়।ভিয়েতনাম থেকে মার্কিন সেনার সংখ্যা ক্রমেই কমিয়ে আনা হচ্ছিল। ফলে দক্ষিণ ভিয়েতনামের জন্য মার্কিন সামরিক মদদও কমে আসছিল। এ অবস্থায় দক্ষিণ ভিয়েতনামের সেনারা ক্রমেই তাদের শক্তি ও সাহস হারিয়ে ফেলতে থাকে। আমেরিকা ১৯৭৪ সালে ভিয়েতনাম অঞ্চল থেকে তার সব সেনা সরিয়ে নেয়। ফলে দক্ষিণের সামরিক অবস্থান পুরোপুরি ভেঙ্গে পড়ে। আর এতেই নির্ধারিত হয়ে যায় যুদ্ধের ভাগ্য।
উত্তর ভিয়েতনামের সেনা সংখ্যা ছিল দশ লাখ। এই সেনারা ছাড়াও কয়েক লাখ ভিয়েতকং বা কমিউনিস্ট গেরিলা পূর্ণাঙ্গ আক্রমণের মাধ্যমে মার্কিন সরকারের চাপিয়ে দেয়া এই যুদ্ধের অবসান ঘটায়। সম্মিলিত হামলার মুখে ১৯৭৫ সালের ত্রিশে এপ্রিল দক্ষিণ ভিয়েতনামের রাজধানী বা সায়গন-এর পতন ঘটে। পরবর্তীকালে এই শহরের নামকরণ করা হয় হো চি মিন সিটি। এ সময় সর্বশেষ মার্কিন হেলিক্প্টারটি সায়গনস্থ মার্কিন দূতাবাস থেকে তাদের সর্বশেষ কর্মী নিয়ে লজ্জাজনকভাবে পালিয়ে যাচ্ছিল।অবশেষে উত্তর ও দক্ষিণ ভিয়েতনাম ১৯৭৬ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে ঐক্যবদ্ধ হয়।
ভিয়েতনামের যুদ্ধ কেড়ে নিয়েছিল ৪০ লাখ মানুষের প্রাণ। নিহতদের মধ্যে মার্কিন সেনার সংখ্যা ছিল ৫৮ হাজার। এ ছাড়াও আহত ও পঙ্গু হয় তিন লাখ মার্কিন সেনা। অথচ আমেরিকার সরকার এক বানোয়াট অভিযোগের ভিত্তিতে শুরু করেছিল এই যুদ্ধ।
আসলে এ অঞ্চলে মার্কিন কর্তৃত্ব বিস্তার ও ভিয়েতনামের স্বাধীন অস্তিত্ব নির্মূল করাই ছিল এ যুদ্ধ চাপিয়ে দেয়ার মূল উদ্দেশ্য। এ যুদ্ধের ফলে ৪০ লাখ মানুষ নিহত হওয়া ছাড়াও পরিবেশ-বিধ্বংসী মার্কিন বোমাগুলোর বিস্ফোরণের প্রভাবে হাজার হাজার শিশু জন্ম নিয়েছে বিকলাঙ্গ অবস্থায়। মার্কিন সেনারা 'এজেন্ট অরেঞ্জ' নামের এক ধরনের রাসায়নিক বোমা ব্যবহার করেছিল এই ভিয়েতনাম যুদ্ধে। 'ডিপ্লেমেটিক লা মন্ডে'র লেখকরা ২০০২ সালে লিখেছেন: ভিয়েতনামের যুদ্ধ ছিল মানুষের ইতিহাসে প্রাকৃতিক ভারসাম্য বিধ্বংসী সবচেয়ে বড় যুদ্ধ।
No comments:
Post a Comment